loader image

মেজর খালেদ মোশাররফ। Rafid Sadat Chowdhury

এক হাতে জ্বলন্ত সিগারেট, অন্যহাতে এসএলআর গুলি করে যাচ্ছেন অবিরাম। বলছিনা স্যাকরেড গেমসের কোনো হিরো কিংবা ভিলেনের কথা। বলছি আমাদের মহান মুক্তিযুদ্ধের এক অকুতোভয় বীরযোদ্ধা মেজর খালেদ মোশাররফ এর কথা। মুক্তিযুদ্ধের সময় তিনি ২নং সেক্টরের সেক্টর কমান্ডার এর দায়িত্ব পালন করেছিলেন। প্রত্যেক মুক্তিযোদ্ধার মতোই যুদ্ধে তার অনস্বীকার্য অবদান ছিলো বটেই ; তবে যুদ্ধ পরবর্তী অস্থিতিশীল দেশে তার কর্মকাণ্ড অন্য দশজন মুক্তিযোদ্ধার চেয়ে ছিলো একটু আলাদা।

 

 

১৯৭৫ সালে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবর রহমানকে সপরিবারে হত্যার পর ৩ নভেম্বর জাতীয় চার নেতাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। সেই সময় যখন পুরো দেশ নিশ্চুপ ভাবে এসব রক্তপাত সহ্য করে যাচ্ছিলো ঠিক তখন রক্তপাতহীন এক অভ্যুত্থানের মাধ্যমে বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনী স্বৈরশাসক চক্রের পতন ঘটিয়েছিলেন আমাদের এই হিরো।
চার নেতাকে হত্যার পর খন্দকার মোশতাক, কর্ণেল ফারুক ও রশীদ যথেষ্ট দুশ্চিন্তায় ছিলেন ; কারণ খালেদ মোশাররফ যে ততক্ষণে বঙ্গভবনের উদ্দ্যেশ্যে যুদ্ধযাত্রা আরম্ভ করে দিয়েছেন সেই খবর তাদের জানা হয়ে গেছে। তাই মেজর ফারুক সোহরাওয়ার্দী উদ্যান থেকে আটটি ট্যাংক এনে বঙ্গভবনের চারদিকে বসিয়ে নিজেদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছিলেন। কিন্তু তাতে হয় নি কোনো লাভ! খালেদ মোশাররফ ৪৬ বেঙ্গল রেজিমেন্টের এন্টি ট্যাংক কামান নিয়ে বঙ্গভবন ঘিরে ফেলেন। সেই সাথে আকাশে ভবন ঘিরে উড়ছে দুটি মিগ বিমান। মিগ বিমানের সাথে ছিলো হেলিকপ্টার ও ট্যাংক বিধ্বংসী মিসাইল। ৪ নভেম্বর সকাল ১১ টায় কর্ণেল শাফায়েত জামিল ও চারজন সশস্ত্র সৈন্য নিয়ে বঙ্গভবনে প্রবেশ করেন খালেদ মোশাররফ। খন্দকার মোশতাক তখন চা পান করছিলেন। কর্ণেল জামিল মোশতাকের দিকে বন্দুক তাক করে বলেন, প্রেসিডেন্ট পদ থেকে আপনি পদত্যাগ করুন এবং খালেদ মোশাররফ কে সেনাপ্রধান করার ব্যবস্থা করুন। বঙ্গভবনের সামনের যুদ্ধাবস্থা ও নিজের অসহায়ত্ব টের পেয়ে মোশতাক সাথে সাথে সম্মতি জানালেন। পরবর্তীতে মন্ত্রী পরিষদের সাথে আলোচনা শেষে খালেদ মোশাররফ কে সেনাপ্রধান এর দায়িত্ব অর্পণ করা হলো এবং খন্দকার মোশতাক প্রেসিডেন্ট পদের দায়িত্বভার বিচারপতি সায়েমের কাছে অর্পণ করেন। এভাবেই পতন হয় বঙ্গবন্ধু ও জাতীয় চার নেতার খুনী সরকারের। নীরব দর্শক হয়ে এতদিন যারা স্বাধীনতা যুদ্ধের মহান নেতাদের মৃত্যুর ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছিলেন তাদের কাছে যেন এক বার্তা পৌঁছে দিতেই মুভির হিরোদের মতো আবির্ভূত হয়েছিলেন আমাদের খালেদ মোশাররফ।

 

লাল সবুজের যে সুপারহিরোর জন্য এ বিপ্লব সম্ভব হয়েছিলো আমাদের তরুণ সমাজের আজ তার নামটিও হয়তো ঠিকভাবে জানা নেই। অনলাইন দুনিয়ার প্রজন্ম হয়তো জানেও না আমাদের কি ড্যাশিং এক সুপারহিরো ছিলো! আমাদের রিয়েল লাইফ হিরো।

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *