loader image

পৃথিবীর সব থেকে কাছের মানুষ | Sathila Rahman

দূর থেকে যখন সাদা কাফন দেখা যাচ্ছিল, তখন সে নিস্তব্ধ।
একপা একপা করে মানুষগুলো এগিয়ে যাচ্ছে।এগিয়ে যাচ্ছিল সেই কাফনে জড়ানো মানুষটি ও।
মাত্র কয়েক পা দূরত্বে থেকে ও মানুষটি  আজ চলে গেছে তার চেয়ে অনেক দূরে,মাকে ডেকে ও আর কখন ও সাড়া পাওয়া যাবে না,নীল হারায় তার সবচেয়ে প্রিয় মানুষ তার মা কে।
আমি আমার পরিবারের সবচেয়ে ছোট সদস্য।ছোট  থেকেই বড় হয়েছি মা বাবার স্বপ্নের পথিকৃৎ হিসেবে,সবকিছুর স্বাভাবিকতার মাধ্যমে আমি কখনই বাস্তবতাকে চিনতে পেরেছি বলে মনে হয়না,
বয়সটা সভাবতই চঞ্চলের, বাবা মার ছোট  খাটো কথা বকা সবকিছুই যেন অত্যন্ত বিরক্তির সাথে দেখি,তাদের আদর ভালবাসা  আর তাদের দেখানো রাগ দেখে অনেক সময়ই তাদের সাথে রূঢ় ব্যবহার করি।নিজেকে  তখন তা “বয়সের দোষ” বলে সান্ত্বনা দেই।আজ আমার মা- বাবা দুজনই বেঁচে আছেন। কিন্তু কখনও ভেবে দেখিনা যখন কঠিন বাস্তবতার কাছে আত্বসমর্পন করে আমাকে ও হারাতে হবে এই মানুষদের। তখনের অবস্থা এই কঠিন বাস্তবতার মধ্য দিয়ে নীল দশ বছরে তার মায়ের দেখানো স্বপ্ন বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।মায়ের অনুপস্থিতি  মায়ের ভালবাসা সবকিছুই  যেন তার বাস্তবতার  কাছে হার মানতে বাধ্য।বাস্তবতা  তাকে আটকে রাখতে পারেনি। তার স্বপ্ন বাস্তবায়নের আজ প্রথম পরীক্ষা, এস,এস,সি।কিন্তু তার জীবনের সবচেয়ে কাছের মানুষটি তার কাছে নেই, তার সেই ভাত খাওয়ানোর মা, স্কুল থেকে এলেই যিনি নীলকে খাইয়ে দিতেন নিজের কথা না ভেবে,সকালের নাস্তা কম খাওয়ার জন্য সেই বকা,কোচিংয়ের জন্য ব্যাগ গুছিয়ে দেওয়ার সেই মানুষ।
সে ভাবতে থাকে তখনই কেন সময়টি স্তব্ধ হয়ে যায়নি,যখন মায়ের সেই কষ্ট ভরা অশ্রু  তিনি নীলের জন্য দোয়া করেতেন।
নিস্তব্ধ হয়ে সবকিছু থেমে গেলে ও থেমে যায়নি সময়।
রেজাল্ট পেয়ে নীল প্রথমে চলে যায় তার মায়ের কবরে।
আজ নীল অস্বাভাবিকভাবে কাঁদছে, ঠিক এইভাবেই সে ছোটবেলাই কাঁদত মায়ের শাডির আচল ধরে।সে কান্না ছিল একটি
টাকার জন্য আর মা বিরক্ত হয়ে তাকে শাসন করত।
আজ আবার ও সেই কান্না। কিন্তু তা মায়ের আচল ধরে নয় মায়ের কবরের মাটি ধরে। আজ এই কান্না একটি টাকার জন্য নয় বরং ফেলে আসা দিন গুলোর মতো ভালবাসার জন্য, সামান্য বকার জন্য, কবরে জড়িয়ে পড়া অশ্রুর ফোটাগুলো  যেন সামান্য স্নেহের জন্য উষ্ণ
বুক খুজে ফিরছে,,,,,,,,,,
বাস্তবতা  আমার কাছে খুবই সহজ শব্দ মনে হলে ও
বাস্তবতা  সবচেয়ে কঠিন শব্দ,প্রতিনিয়ত  তাদেরকে বিষন্নভাবে ফেলে আপন খুশিতে চলতে চাই, কখন ও ভেবে  দেখনা তাদের সকল চেষ্টা,  কষ্ট,  ত্যাগ সবকিছুর জন্য স্বার্থ  একটা
আমাদের সফলতা। জীবনের ঘড়ি কখন ও থেমে থাকেনা, কঠিন বাস্তবতা মেনে একদিন আমাকে ও  হারাতে  হবে জীবনের সবচেয়ে পছন্দের মানুষটি কে,
“মা” তোমাকে বলতে চাই
জীবনে একজন ভাল মানুষ হওয়ার শিক্ষাটা তোমার থেকে শিখা,জীবনে নিজের পায়ে হাঁটার শিক্ষাটা ও তোমার দেওয়া এই শিক্ষাটার মাধ্যমে তোমার মুখে হাসি ফোঁটাব একদিন, নিজের পায়ে দাড়িয়ে তোমাকে
গর্ববোধ করাবো
ইনশাল্লাহ,,,,,
মা অনেক বেশি ভালবাসি তোমাকে….

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *